শোরুমে পাশাপাশি দুটো স্কুটার। দেখতে প্রায় এক রকম, মোটরের ক্ষমতাও কাছাকাছি। অথচ একটার দাম এক লাখ টাকার আশপাশে, অন্যটার দাম আরও ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেশি। বিক্রয়কর্মীকে কারণ জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে এক শব্দে: ব্যাটারি। একটায় “গ্রাফিন”, অন্যটায় “লিথিয়াম”।
বাড়তি টাকাটা কি দেওয়ার মতো? ছোট উত্তর হলো, বাইকটা তিন বছরের বেশি রাখলে আর রোজ ৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি চালালে লিথিয়াম (বিশেষ করে LFP) শেষ পর্যন্ত সস্তা পড়ে। বাজেট টানাটানি হলে, দূরত্ব কম হলে আর রাতে বাড়িতে নিশ্চিন্তে চার্জ দেওয়া গেলে গ্রাফিন লেড অ্যাসিড এখনো যুক্তিসংগত পছন্দ।
তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটা ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। শোরুমের “গ্রাফিন ব্যাটারি” জিনিসটা আসলে কী, সেটা না জেনে তুলনা করলে হিসাব শুরুতেই গোলমাল হয়ে যায়।
সংক্ষেপে উত্তর: কার জন্য কোন ব্যাটারি?
- বাজেট ১ লাখ টাকার কম, রোজ ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার: গ্রাফিন লেড অ্যাসিড। প্রথম খরচ কম, রাতভর চার্জে সমস্যা নেই।
- রোজ ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার, বাইক ৪ থেকে ৫ বছর রাখবেন: LFP লিথিয়াম। ব্যাটারি বদলের খরচ বাঁচে, পাঁচ বছরে মোট খরচ সাধারণত কম পড়ে।
- ডেলিভারি বা রাইড শেয়ারিং, রোজ ৮০ কিলোমিটারের বেশি: LFP লিথিয়াম, প্রায় বিকল্পহীনভাবে। দিনের মাঝে দ্রুত চার্জ আর বেশি সাইকেলের দরকার এখানে সবচেয়ে বেশি।
- বাড়িতে নিয়মিত চার্জের সুযোগ নেই: LFP লিথিয়াম। আংশিক চার্জে এর ক্ষতি কম, আর ২.৫ থেকে ৪ ঘণ্টায় পূর্ণ চার্জ হয়।

শোরুমের “গ্রাফিন ব্যাটারি” আসলে কী?
বাংলাদেশের বেশির ভাগ সাশ্রয়ী ই-স্কুটারে যে “গ্রাফিন ব্যাটারি” থাকে, সেটা মূলত একটি লেড অ্যাসিড (সীসা-অ্যাসিড) ব্যাটারি। এর প্লেটে কার্বন বা গ্রাফিনজাতীয় উপাদান মেশানো থাকে, যাতে ব্যাটারি একটু দ্রুত চার্জ নেয় আর সাধারণ লেড অ্যাসিডের চেয়ে কিছুটা বেশি দিন টেকে। ভেতরের মূল রসায়ন কিন্তু সেই পুরোনো সীসা আর সালফিউরিক অ্যাসিড।
বিষয়টা লুকানোও নয়। প্রথম আলোর ই-বাইক ও ই-স্কুটারের তালিকায় ওয়ালটনের তাকিওন লিও আর রাইডু ব্লেজের স্পেসিফিকেশনে সরাসরি “গ্রাফিন লেড অ্যাসিড” ব্যাটারির কথা লেখা আছে। সমস্যা হয় যখন বিজ্ঞাপনে শুধু “গ্রাফিন” লেখা থাকে, আর ক্রেতা ভাবেন এটা ভবিষ্যতের কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
ল্যাবের গ্রাফিন আর বাজারের গ্রাফিন এক জিনিস নয়
গ্রাফিন হলো কার্বন পরমাণুর মাত্র এক স্তরের পাতলা চাদর। গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা একে লিথিয়াম ব্যাটারির ইলেকট্রোডে ব্যবহার করে দ্রুত চার্জ আর বেশি ক্ষমতার ফল পেয়েছেন। ইন্টারনেটে “গ্রাফিন ব্যাটারি ৮ মিনিটে চার্জ হয়” বা “লিথিয়ামের তিন গুণ শক্তি ধরে” জাতীয় যে দাবি ঘুরে বেড়ায়, সেগুলো এই গবেষণা পর্যায়ের প্রযুক্তি নিয়ে। দেড় লাখ টাকার কম দামের স্কুটারের ব্যাটারির সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক নেই।
একটা সহজ তুলনা ধরা যাক। চায়ে এক চিমটি এলাচ দিলে স্বাদ বদলায়, কিন্তু চা তাতে কফি হয়ে যায় না। গ্রাফিন মেশানো লেড অ্যাসিড ব্যাটারিও তেমন: আগের চেয়ে ভালো, কিন্তু লেড অ্যাসিডই।
“পিউর গ্রাফিন” লেখা দেখলে কীভাবে বুঝবেন ভেতরে কী আছে
কিছু ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপনে “পিউর গ্রাফিন” কথাটা ব্যবহার করে। এটা একটা বাজারি নাম, রসায়নের পরিচয় নয়। শোরুমে দাঁড়িয়েই পাঁচটা জিনিস মিলিয়ে নিতে পারেন:
- ব্লকের সংখ্যা: ৬০ ভোল্টের লেড অ্যাসিড প্যাকে সাধারণত ১২ ভোল্টের পাঁচটা আলাদা ব্লক থাকে (৭২ ভোল্টে ছয়টা, ৪৮ ভোল্টে চারটা)। লিথিয়াম প্যাক সাধারণত একটাই বাক্স।
- ওজন: একই ভোল্টেজের লেড অ্যাসিড প্যাক লিথিয়ামের চেয়ে মোটামুটি দুই থেকে তিন গুণ ভারী।
- চার্জারের লেবেল: চার্জারে “Lead Acid” বা “Pb” লেখা থাকলে ব্যাটারি লেড অ্যাসিড। লিথিয়ামের চার্জারে লেখা থাকে “Li-ion” বা “LiFePO4″।
- ওয়ারেন্টি: লেড অ্যাসিডে সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস, ভালো লিথিয়ামে ২ থেকে ৩ বছর বা তার বেশি।
- চার্জিং সময়: পূর্ণ চার্জে ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা লাগলে প্রায় নিশ্চিতভাবে লেড অ্যাসিড।

লিথিয়াম-আয়ন মানেই কি এক? LFP আর NMC-এর পার্থক্য
না। “লিথিয়াম ব্যাটারি” একটা বড় পরিবার, আর ই-স্কুটারে প্রধানত দুই ধরনের লিথিয়াম দেখা যায়: LFP আর NMC। বাংলাদেশের গরম আর দুই চাকার ব্যবহারের জন্য LFP সাধারণত বেশি নিরাপদ পছন্দ।
LFP (লিথিয়াম আয়রন ফসফেট বা LiFePO4) তাপে বেশ স্থিতিশীল। অতিরিক্ত গরম বা আঘাতে আগুন ধরার ঝুঁকি অন্য লিথিয়ামের তুলনায় অনেক কম। নির্মাতারা সাধারণত ২,০০০ বা তার বেশি চার্জ সাইকেলের রেটিং দেন। দুর্বলতা একটাই: একই শক্তির জন্য NMC-এর চেয়ে একটু ভারী।
NMC (নিকেল ম্যাঙ্গানিজ কোবাল্ট) হালকা আর কম জায়গায় বেশি শক্তি ধরে, তাই দামি ও পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক বাইকে বেশি দেখা যায়। তবে এটা তাপে বেশি সংবেদনশীল, আর মানহীন প্যাক বা দুর্বল সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে আগুনের ঝুঁকি বাড়ে।
তাই বিক্রেতা “লিথিয়াম” বললে পরের প্রশ্নটা হওয়া উচিত: কোন লিথিয়াম? উত্তরটা মুখে নয়, স্পেক শিট বা ইনভয়েসে লিখিত চান।
BMS কী, আর এটা ছাড়া লিথিয়াম কেন বিপজ্জনক
BMS বা ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো লিথিয়াম প্যাকের ভেতরের ছোট্ট একটা সার্কিট বোর্ড। এটা প্রতিটি সেলের ভোল্টেজ আর তাপমাত্রা নজরে রাখে, অতিরিক্ত চার্জ বা একেবারে খালি হয়ে যাওয়া ঠেকায়, আর কোনো সেল বেশি গরম হলে বিদ্যুৎ কেটে দেয়।
লেড অ্যাসিডে এর দরকার পড়ে না, কিন্তু লিথিয়ামে BMS ছাড়া চালানো মানে বিপদ ডেকে আনা। নামি ব্র্যান্ডের কারখানায় বসানো প্যাকে এটা থাকে। ঝুঁকি বেশি সস্তা লোকাল প্যাক আর বাজারে বানানো রূপান্তরে, যেখানে খরচ বাঁচাতে কম মানের BMS বসানো হয়।
মুখোমুখি তুলনা: গ্রাফিন লেড অ্যাসিড বনাম লিথিয়াম (LFP)
নিচের সারণিতে একই ভোল্টেজ আর কাছাকাছি ক্ষমতার দুই ধরনের ব্যাটারির সাধারণ চিত্র দেওয়া হলো। সংখ্যাগুলো ব্র্যান্ড, ব্যবহার আর আবহাওয়াভেদে বদলাবে।
| বিষয় | গ্রাফিন লেড অ্যাসিড | লিথিয়াম (LFP) |
|---|---|---|
| বাস্তব আয়ু (চার্জ সাইকেল) | মোটামুটি ৩০০ থেকে ৬০০ | সাধারণত ২,০০০ বা তার বেশি (রেটিং) |
| বছরে হিসাব করলে | সাধারণত ১.৫ থেকে ৩ বছর | সাধারণত ৫ বছর বা তার বেশি |
| পূর্ণ চার্জের সময় | ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা | ২.৫ থেকে ৪ ঘণ্টা |
| ওজন (৬০V প্যাক) | ভারী, লিথিয়ামের দুই থেকে তিন গুণ | হালকা |
| চার্জ-ডিসচার্জ দক্ষতা | প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ | প্রায় ৯৫ শতাংশ |
| সাধারণ ওয়ারেন্টি | ১২ থেকে ১৮ মাস | ২ থেকে ৩ বছর বা বেশি |
| প্রথম দাম | কম | বেশি |
| আংশিক চার্জে ক্ষতি | হয় (সালফেশন) | প্রায় হয় না |
| আগুনের ঝুঁকি | কম | কম (LFP), NMC-তে তুলনামূলক বেশি |
| পুনর্ব্যবহার | সহজ, কিন্তু অনানুষ্ঠানিক খাতে দূষণ বড় সমস্যা | বাংলাদেশে ব্যবস্থা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে |
আয়ু আর চার্জ সাইকেল: একেক জায়গায় একেক সংখ্যা কেন
গ্রাফিন ব্যাটারির আয়ু নিয়ে খুঁজলে দুই প্রান্তের দুই রকম দাবি পাবেন। পাকিস্তানের একটি জনপ্রিয় অটো ব্লগ লিখেছে, গ্রাফিন-লেপা লেড অ্যাসিড ব্যাটারি মাত্র ৬ থেকে ১২ মাস বা ২০০ থেকে ৩০০ সাইকেল টেকে। আবার এক চীনা ব্যাটারি নির্মাতা দাবি করছে, সাধারণ লেড অ্যাসিড যেখানে ৩৫০ সাইকেলের মতো চলে, গ্রাফিন ব্যাটারি চলে তার অন্তত তিন গুণ।
দুটো দাবিই নিজের স্বার্থের দিকে একটু হেলে আছে। প্রথমটি মতামতধর্মী লেখা, দ্বিতীয়টি বিক্রেতার প্রচার। বাস্তব আয়ু নির্ভর করে তিনটি জিনিসের ওপর:
- কতটা খালি করে চার্জ দেন: লেড অ্যাসিড একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে চার্জ দিলে আয়ু দ্রুত কমে।
- তাপমাত্রা: গরমে লেড অ্যাসিডের ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুত হয়, প্লেট তাড়াতাড়ি ক্ষয় হয়।
- চার্জিং অভ্যাস: আধা চার্জ অবস্থায় দিনের পর দিন রেখে দিলে প্লেটে সালফেটের স্তর জমে, যাকে বলে সালফেশন।
এই লেখার হিসাবে আমরা ধরেছি, বাংলাদেশের স্বাভাবিক ব্যবহারে একটি গ্রাফিন লেড অ্যাসিড প্যাক গড়ে প্রায় দুই বছর ভালো রেঞ্জ দেয়। যত্নে রাখলে তিন বছরও যেতে পারে, অবহেলায় দেড় বছরের আগেই রেঞ্জ অর্ধেকে নামতে পারে।
ওজন, রেঞ্জ আর চার্জিং সময়
ব্যবহারকারীর কাছে সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায় চার্জিং সময়ের পার্থক্য। পাকিস্তানের ব্র্যান্ড এমএস জাগুয়ার একই মডেলের দুই সংস্করণ বিক্রি করে, তাই তুলনাটা পরিষ্কার দেখা যায়। তাদের গ্রাফিন মডেলে পূর্ণ চার্জে ৫ থেকে ৮.৫ ঘণ্টা লাগে, ব্যাটারি ওয়ারেন্টি ১৮ মাস। LFP মডেলে লাগে ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা, ওয়ারেন্টি ৩ বছর।
ওজনের প্রভাব পড়ে রেঞ্জ আর চালানোর আরামে। ভারী প্যাক মোটরকে বেশি টানতে হয়, ওঠা-নামার রাস্তায় শক্তি বেশি খরচ হয়, আর পার্কিংয়ে স্কুটার ঠেলে সরাতেও কষ্ট বাড়ে।
বিদ্যুৎ খরচেও একটা ছোট পার্থক্য আছে। লেড অ্যাসিড চার্জের সময় শক্তির একটা অংশ তাপ হিসেবে নষ্ট করে। একই ব্র্যান্ডের হিসাবে, ৭২ ভোল্ট ৩২Ah গ্রাফিন মডেলে এক পূর্ণ চার্জে প্রায় ২.৬ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে, আর ৬৪ ভোল্ট ৩০Ah LFP মডেলে লাগে প্রায় ২.২ ইউনিট।
নিরাপত্তা: আগুনের ঝুঁকি আসলে কোথায়
লিথিয়াম ব্যাটারিতে আগুনের খবর বেশি চোখে পড়ে, তাই অনেকে লেড অ্যাসিডকে পুরোপুরি নিরাপদ ভাবেন। বাস্তবে দুটোরই নিজস্ব ঝুঁকি আছে।
লিথিয়ামের বড় ঝুঁকি “থার্মাল রানঅ্যাওয়ে”। একটা সেল অতিরিক্ত গরম হলে সেটা পাশের সেলকেও গরম করে, আর আগুন দ্রুত ছড়ায়। LFP-তে এই ঝুঁকি অনেক কম। দুর্ঘটনার বেশির ভাগ ঘটে মানহীন প্যাক, ভুল চার্জার বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি থেকে।
লেড অ্যাসিডে বিস্ফোরণের ঝুঁকি কম, কিন্তু চার্জের সময় সামান্য হাইড্রোজেন গ্যাস বের হয়, পুরোনো ব্লক থেকে অ্যাসিড চুইয়ে পড়তে পারে, আর ফুলে যাওয়া ব্লক গরম হয়।
দুই ক্ষেত্রেই নিয়ম এক:
- কোম্পানির দেওয়া চার্জারই ব্যবহার করুন।
- সিঁড়িঘর বা বের হওয়ার একমাত্র পথে চার্জ দেবেন না।
- চার্জে রেখে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৫ বছরে আসল খরচ কত? টাকার হিসাবে তুলনা
শোরুমের দামে গ্রাফিন সস্তা। কিন্তু একটা স্কুটারের আসল খরচ বোঝা যায় কয়েক বছর চালানোর পর, যখন ব্যাটারি বদলের বিল আসে। নিচের হিসাবটা একটা উদাহরণ মডেল। প্রতিটি অনুমান খোলাখুলি লেখা আছে, যাতে আপনি নিজের শোরুমের দাম বসিয়ে মিলিয়ে নিতে পারেন।
যে অনুমানগুলো ধরা হয়েছে:
- ৬০ ভোল্টের গ্রাফিন স্কুটারের দাম ৳১,০০,০০০। একই ধরনের LFP সংস্করণ ৳১,৪০,০০০, অর্থাৎ ৳৪০,০০০ বেশি।
- গ্রাফিন প্যাক বদলাতে খরচ ৳২২,০০০ (পুরোনো ব্যাটারি ফেরতের ছাড় বাদে)। প্যাক গড়ে ২ বছর টেকে।
- LFP প্যাক ৫ বছরের মধ্যে বদলাতে হবে না।
- রোজ ৪০ কিলোমিটার, বছরে ৩০০ দিন। অর্থাৎ বছরে ১২,০০০ কিলোমিটার।
- বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৳১০ ধরা হয়েছে। জুন ২০২৬-এর মূল্যবৃদ্ধির পর খুচরা পর্যায়ে গড় দাম ১০ টাকা ৬৩ পয়সা।
- প্রতি কিলোমিটারে বিদ্যুৎ লাগে: গ্রাফিনে প্রায় ০.০৪২ ইউনিট, LFP-তে প্রায় ০.০৩৫ ইউনিট।
| খরচের খাত | গ্রাফিন (৩ বছর) | LFP (৩ বছর) | গ্রাফিন (৫ বছর) | LFP (৫ বছর) |
|---|---|---|---|---|
| কেনার দাম | ৳১,০০,০০০ | ৳১,৪০,০০০ | ৳১,০০,০০০ | ৳১,৪০,০০০ |
| ব্যাটারি বদল | ৳২২,০০০ (১ বার) | ৳০ | ৳৪৪,০০০ (২ বার) | ৳০ |
| বিদ্যুৎ খরচ | ৳১৫,১২০ | ৳১২,৬০০ | ৳২৫,২০০ | ৳২১,০০০ |
| মোট | ৳১,৩৭,১২০ | ৳১,৫২,৬০০ | ৳১,৬৯,২০০ | ৳১,৬১,০০০ |
ফলটা মজার। তিন বছরের মাথায় গ্রাফিন প্রায় ৳১৫,০০০ এগিয়ে থাকে। পাঁচ বছরে হিসাব উল্টে যায়, LFP তখন প্রায় ৳৮,০০০ সাশ্রয়ী। মোটামুটি চতুর্থ বছরে, দ্বিতীয়বার গ্রাফিন প্যাক বদলানোর সময় দুই পাল্লা সমান হয়।
পুরো হিসাবটা দাঁড়িয়ে আছে একটা প্রশ্নের ওপর: আপনার গ্রাফিন ব্যাটারি কত দিন টিকবে? প্যাক যদি তিন বছর টেকে, পাঁচ বছরে বদলাতে হবে একবার, আর তখন গ্রাফিনই প্রায় ৳১৪,০০০ সাশ্রয়ী থাকে। আবার দেড় বছরে নষ্ট হলে LFP-র সুবিধা অনেক বেড়ে যায়।
দূরত্ব বদলালে ছবিটা এমন দাঁড়ায়:
- রোজ ২০ কিলোমিটারের রাইডার: বিদ্যুৎ খরচের পার্থক্য সামান্য। ব্যাটারি সাইকেলের চেয়ে বয়সে বেশি ক্ষয় হয়। তিন বছরের মধ্যে বাইক বদলানোর পরিকল্পনা থাকলে গ্রাফিন পরিষ্কারভাবে লাভজনক।
- রোজ ৮০ কিলোমিটারের ডেলিভারি রাইডার: গ্রাফিন প্যাক বছরে প্রায় ৪০০ সাইকেল পার করবে, অর্থাৎ বছর দেড়েকের মধ্যেই বদলাতে হতে পারে। পাঁচ বছরে তিন থেকে চারবার বদল, সঙ্গে দিনে চার্জ দেওয়ার ঝামেলা। এখানে LFP অনেক এগিয়ে।
হিসাবে একটা জিনিস ধরা হয়নি: ঝামেলার দাম। প্রতিবার ব্যাটারি বদলানো মানে শোরুমে যাওয়া, কয়েক দিন বাইক ছাড়া থাকা, আর মাঝের মাসগুলোতে কমতে থাকা রেঞ্জ নিয়ে চলা।
বাংলাদেশের গরম, বর্ষা আর লোডশেডিংয়ে কোনটা টিকবে?
বিদেশি তুলনামূলক লেখাগুলো সাধারণত মাঝারি আবহাওয়া ধরে লেখা হয়। আমাদের বাস্তবতা আলাদা, আর এখানে দুই ব্যাটারির আচরণেও পার্থক্য চোখে পড়ে।
গরম: ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে প্রতি ১০ ডিগ্রি বাড়তি তাপমাত্রায় লেড অ্যাসিডের আয়ু মোটামুটি অর্ধেকে নামে। এপ্রিল-মে মাসে রোদে পার্ক করা স্কুটারের সিটের নিচে তাপমাত্রা সহজেই ৪০ ডিগ্রি ছাড়ায়। LFP-ও গরমে ক্ষয় হয়, তবে তুলনামূলক ধীরে। যে ব্যাটারিই হোক, ছায়ায় পার্ক করা আর চালানোর সঙ্গে সঙ্গে চার্জে না বসানো (কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দেওয়া) আয়ু বাড়ায়।
বর্ষা ও জলাবদ্ধতা: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বা ঢাকার মিরপুরে বৃষ্টির পর হাঁটুপানি নতুন কিছু নয়। দুই ধরনের ব্যাটারিই সাধারণত সিল করা বাক্সে থাকে, তবে বাক্সের ওয়াটারপ্রুফ মান (IP রেটিং) মডেলভেদে আলাদা। ব্যাটারি যে উচ্চতায় বসানো, সেই পর্যন্ত পানি উঠলে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। পানিতে ডুবে যাওয়া লিথিয়াম প্যাক বাইরে থেকে ঠিক মনে হলেও ভেতরে শর্ট সার্কিট হতে পারে। এমন হলে চার্জ দেওয়ার আগে অবশ্যই সার্ভিস সেন্টারে দেখিয়ে নিন।
লোডশেডিং আর আংশিক চার্জ: এখানেই LFP-র সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক সুবিধা। লোডশেডিংয়ে চার্জ মাঝপথে থেমে গেলে লেড অ্যাসিড অর্ধেক ভরা অবস্থায় থাকে, আর বারবার এমন হলে সালফেশন বাড়ে। LFP আংশিক চার্জে প্রায় কোনো ক্ষতি ছাড়াই চলে। দেড় ঘণ্টার চার্জেও ভালো রেঞ্জ ফিরে আসে।
গ্রাফিন বাইক চালালে মাসে অন্তত একবার পুরো চার্জ (চার্জারের সবুজ বাতি জ্বলা পর্যন্ত) দিন। আর ব্যাটারি একেবারে শূন্যে নামার আগেই চার্জে বসান।
পুরোনো ব্যাটারি কোথায় যায়? সীসা দূষণের কথা কেউ বলে না
ব্যাটারি কেনার আলোচনায় একটা প্রশ্ন প্রায় কেউ তোলে না: দুই বছর পর বাতিল প্যাকটা কোথায় যাবে? লেড অ্যাসিডের ক্ষেত্রে উত্তরটা অস্বস্তিকর।
ঢাকার একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১,১০০-রও বেশি অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ পুরোনো লেড অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কেন্দ্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এসব জায়গায় খোলা আগুনে সীসা গলানো হয়, অ্যাসিড ঢালা হয় আশপাশের নালা বা জলাশয়ে।
এর দাম দিচ্ছে শিশুরা। ইউনিসেফের ২০২০ সালের হিসাবে বাংলাদেশে ২ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৬০ লাখ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা নিরাপদ সীমার ওপরে। এর প্রধান উৎস হিসেবে অনানুষ্ঠানিক ব্যাটারি রিসাইক্লিং আর উৎপাদনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ই-স্কুটারের ব্যাটারি একা এই সংকট তৈরি করেনি। এর বড় অংশ আসে ইজিবাইক আর অটোরিকশা থেকে, আর একটি ইজিবাইকের ব্যাটারি সেটে থাকে প্রায় ১২৫ কেজি সীসা। কিন্তু প্রতিটি পুরোনো ব্যাটারি কোথায় যাচ্ছে, তার দায় ক্রেতারও।
লেড অ্যাসিড কিনলে করণীয় সহজ:
- পুরোনো প্যাক অনুমোদিত ডিলার বা ব্যাটারি কোম্পানির কাছে ফেরত দিন।
- রাস্তার ভাঙারিওয়ালার কাছে বেচবেন না, কয়েকশ টাকা বেশি দিলেও না।
- বদলানোর সময় জিজ্ঞেস করুন, পুরোনো ব্যাটারি কোম্পানির নিজস্ব রিসাইক্লিং কারখানায় যাবে কি না।
লিথিয়ামও সমস্যামুক্ত নয়। বাংলাদেশে লিথিয়াম ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের সুসংগঠিত ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। তফাত হলো, লিথিয়াম প্যাক বদলাতে হয় অনেক কম, তাই পাঁচ বছরে বর্জ্যও কম জমে।
কেনার আগে শোরুমে যে ৭টি প্রশ্ন করবেন
বিক্রেতার মুখের কথায় ভরসা না করে নিচের প্রশ্নগুলো করুন। সম্ভব হলে উত্তর ইনভয়েস বা ওয়ারেন্টি কার্ডে লিখিয়ে নিন।
- ব্যাটারির রসায়ন কী? গ্রাফিন লেড অ্যাসিড, LFP নাকি NMC? শুধু “গ্রাফিন” বা “লিথিয়াম” উত্তর হিসেবে যথেষ্ট নয়।
- ভোল্টেজ আর অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (Ah) কত? ৬০V ৩২Ah মানে প্রায় ১.৯ কিলোওয়াট-আওয়ার শক্তি। Ah যত বেশি, রেঞ্জ তত বেশি।
- ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কত দিনের, আর কী কী কভার করে? বছরের হিসাবের পাশাপাশি জানতে চান, রেঞ্জ কত শতাংশে নামলে বদলে দেবে।
- লিথিয়াম হলে BMS আছে কি? কত সাইকেলের রেটিং?
- চার্জারের স্পেসিফিকেশন কী, আর আলাদা কিনতে কত দাম?
- ব্যাটারি বদলাতে এখন কত টাকা লাগে? আজকের দামটা জেনে রাখলে দুই বছর পরের বাজেট করা সহজ হয়।
- নিকটতম সার্ভিস সেন্টার কোথায়? ব্যাটারির সমস্যা হলে শুধু ঢাকায় ছুটতে হলে চট্টগ্রাম বা রাজশাহীর ক্রেতার ভোগান্তি বাড়বে।
গ্রাফিন বাইকে কি পরে লিথিয়াম লাগানো যায়?
কারিগরিভাবে যায়, কিন্তু কাজটা “ব্যাটারি খুলে নতুন বসানো” যতটা সহজ শোনায়, ততটা নয়। তিনটি জিনিস মিলতে হবে:
- চার্জার: লেড অ্যাসিডের চার্জার দিয়ে কখনোই লিথিয়াম চার্জ দেবেন না। দুটোর চার্জিং পদ্ধতি আলাদা, ভুল চার্জার লিথিয়ামে আগুনের কারণ হতে পারে।
- কন্ট্রোলার: লিথিয়ামের পূর্ণ চার্জের ভোল্টেজ কন্ট্রোলার সামলাতে পারবে কি না, আর ব্যাটারি কত ভোল্টে কেটে দেবে, এই দুটো মেলাতে হবে।
- প্যাকের মান ও BMS: বাজারে বানানো প্যাকে কোন সেল ব্যবহার হয়েছে, BMS কতটা মানসম্মত, তা যাচাই করা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে কঠিন।
রূপান্তর করলে কোম্পানির ওয়ারেন্টি সাধারণত বাতিল হয়ে যায়। যদি করতেই চান, ব্র্যান্ডের নিজস্ব সার্ভিস সেন্টারে জিজ্ঞেস করুন তাদের অনুমোদিত লিথিয়াম আপগ্রেড আছে কি না। নতুন বাইক কেনার সময় লিথিয়াম সংস্করণ নেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই রূপান্তরের চেয়ে নিরাপদ আর সস্তা।
তাহলে কোনটি নেবেন? রাইডার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
উত্তরটা নির্ভর করে আপনি কে, কতটা চালান আর বাইকটা কত দিন রাখবেন তার ওপর।
ছাত্র বা কাছাকাছি দূরত্বের যাত্রী (রোজ ২০ থেকে ৩০ কিমি): গ্রাফিন লেড অ্যাসিড নিন, যদি বাজেট ১ লাখের নিচে রাখতে চান আর রাতে বাড়িতে চার্জের সুযোগ থাকে। বাঁচানো টাকায় ভালো হেলমেট কিনুন। দুই-তিন বছর পর বাইক বদলানোর পরিকল্পনা থাকলে লিথিয়ামের বাড়তি দাম উঠে আসার সময়ই পাবেন না।
অফিসগামী নিয়মিত যাত্রী (রোজ ৪০ থেকে ৬০ কিমি): সাধ্যে কুলালে LFP নিন। পাঁচ বছরের হিসাবে এটা সাধারণত সস্তা পড়ে, আর অফিসে দেড়-দুই ঘণ্টা চার্জ দিয়ে ফেরার নমনীয়তাও পাবেন। কিস্তি বা ব্যাংক লোনে কিনলে মাসিক কিস্তির পার্থক্যটা হিসাব করে দেখুন।
ডেলিভারি, কুরিয়ার বা রাইড শেয়ারিং (রোজ ৮০ কিমির বেশি): LFP ছাড়া অন্য কিছু ভাবার কারণ কম। এই ব্যবহারে গ্রাফিন প্যাক বছরে একবারের বেশি বদলাতে হতে পারে, আর দিনের মাঝে ছয়-সাত ঘণ্টা চার্জে বসিয়ে রাখা মানে আয় হারানো।
ফ্ল্যাট বাসা, যেখানে নিয়মিত চার্জের জায়গা নেই: হালকা আর দ্রুত চার্জ হওয়া LFP সুবিধাজনক। কিছু মডেলে ব্যাটারি খুলে ঘরে নিয়ে চার্জ দেওয়া যায়, কেনার সময় সেটা দেখে নিন।
সামনে কী আসছে: সোডিয়াম-আয়ন আর ইজিবাইকে লিথিয়াম
“আর দুই বছর অপেক্ষা করি, আসল গ্রাফিন ব্যাটারি আসুক”, এমন ভাবনা থাকলে মাথায় রাখুন, গবেষণাগারের প্রযুক্তি সাশ্রয়ী স্কুটারে পৌঁছাতে সাধারণত অনেক বছর লাগে। তবে কাছের ভবিষ্যতে দুটো পরিবর্তন চোখে রাখার মতো।
প্রথমটি সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। টেইলজি বাংলাদেশ দেশের প্রথম সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক বাইক উন্মোচন করেছে। লিথিয়ামের চেয়ে সস্তা কাঁচামাল আর ঠান্ডা-গরমে স্থিতিশীলতা এর বড় প্রতিশ্রুতি। তবে বাংলাদেশের রাস্তায় এর দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের তথ্য এখনো নেই।
দ্বিতীয়টি নীতিগত। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) রাজধানীর উত্তরখানে ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে। এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের। ইজিবাইকে লিথিয়াম ছড়ালে বাজারে লিথিয়াম প্যাকের দাম, সার্ভিস নেটওয়ার্ক আর রিসাইক্লিং ব্যবস্থা, তিনটিই উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর সুফল ই-স্কুটারের ক্রেতারাও পাবেন।
আজ যদি বাইক দরকার হয়, অপেক্ষার চেয়ে নিজের ব্যবহার বুঝে সঠিক ব্যাটারি বেছে নেওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গ্রাফিন ব্যাটারি কতদিন টিকে? বাংলাদেশে স্বাভাবিক ব্যবহারে একটি গ্রাফিন লেড অ্যাসিড প্যাক সাধারণত দেড় থেকে তিন বছর ভালো রেঞ্জ দেয়। গরম, একেবারে খালি করে চার্জ দেওয়া আর আধা চার্জে ফেলে রাখা আয়ু কমায়। কোম্পানির ওয়ারেন্টি সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস।
গ্রাফিন ব্যাটারি বদলাতে কত টাকা লাগে? ভোল্টেজ, অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার আর ব্র্যান্ডভেদে দাম আলাদা। ৬০ ভোল্টের একটি সাধারণ প্যাকের জন্য এই লেখায় আনুমানিক ৳২২,০০০ ধরা হয়েছে। কেনার সময় শোরুমে আজকের বদল-দাম জেনে নিন। পুরোনো ব্যাটারি ফেরত দিলে সাধারণত কিছু ছাড় পাওয়া যায়।
লিথিয়াম ব্যাটারিতে কি আগুন ধরে? ঝুঁকি আছে, তবে তা মূলত মানহীন প্যাক, ভুল চার্জার বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি থেকে আসে। LFP ধরনের লিথিয়াম তাপে অনেক স্থিতিশীল। কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করলে আর BMS-যুক্ত প্যাক কিনলে ঝুঁকি অনেক কমে।
সারারাত চার্জে রাখা কি ঠিক? ভালো মানের চার্জার পূর্ণ চার্জের পর বিদ্যুৎ কমিয়ে দেয়, তাই গ্রাফিন ব্যাটারিতে রাতভর চার্জ প্রচলিত অভ্যাস। তবু চার্জের জায়গা খোলা রাখুন, সিঁড়িঘর বা দরজার পাশে নয়। লিথিয়াম যেহেতু ৩-৪ ঘণ্টায় ভরে যায়, ঘুমানোর আগেই চার্জ শেষ করার চেষ্টা করুন।
বৃষ্টিতে কোন ব্যাটারি বেশি নিরাপদ? দুটোই সাধারণত সিল করা বাক্সে থাকে। আসল পার্থক্য গড়ে বাইকের ওয়াটারপ্রুফ মান আর ব্যাটারি কত উঁচুতে বসানো। হালকা বৃষ্টিতে চালানো সমস্যা নয়, কিন্তু ব্যাটারি ডুবে যাওয়ার মতো পানিতে কোনোটিই চালাবেন না।
পুরোনো ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার সময় ব্যাটারি কীভাবে চেক করব? বিক্রেতাকে পূর্ণ চার্জ দিয়ে রাখতে বলুন। তারপর অন্তত ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার চালিয়ে দেখুন, ব্যাটারির দাগ কত দ্রুত নামে। লেড অ্যাসিড হলে ব্লক ফোলা বা অ্যাসিডের দাগ আছে কি না দেখুন। ব্যাটারি কবে বদলানো হয়েছে, তার রসিদ চান। রসিদ না থাকলে দামাদামিতে একটা নতুন প্যাকের খরচ ধরে নিন।
তথ্যসূত্র
- প্রথম আলো: দেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ই-বাইক ও ই-স্কুটার। https://www.prothomalo.com/technology/automobiles/tp8zj7euc2
- টিবিএস বাংলা: দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক নিয়ে এল রিভো। https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-319436
- PakWheels: Dark Truth of Graphene Batteries in EV Scooters in Pakistan. https://www.pakwheels.com/blog/dark-truth-of-graphene-batteries-in-ev-scooters-in-pakistan/
- Manly Battery: graphene vs lead-acid comparison. https://www.manlybatteries.com/info/what-is-the-difference-between-graphene-batter-66225136.html
- MS Jaguar: Electric Scooter Price in Pakistan 2026 (graphene vs LFP data). https://msjaguarmotorcycles.com/blogs/blog/electric-scooter-price-in-pakistan
- Business Recorder: Graphene vs lithium-ion phosphate for EV bikes. https://www.brecorder.com/news/40384321
- খবর সংযোগ: বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার, জুন ২০২৬। https://www.khoborsangjog.com/113661
- ESDO: Assessment of Informal Used Lead Acid Battery Recycling. https://esdo.org/wp-content/uploads/2023/02/AIUL.pdf
- SMEP: Used Lead Acid Batteries (UNICEF 2020 data). https://smepprogramme.org/procurement/used-lead-acid-batteries/
- Pure Earth: Reducing informal ULAB recycling in Bangladesh. https://www.pureearth.org/project/smep-project-development-of-business-models-policy-interventions-to-reduce-informal-ulab-recycling-in-bangladesh/
- ইত্তেফাক: ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ। https://www.ittefaq.com.bd/814117/
- BikeBD: সোডিয়াম-আয়ন ই-বাইক উন্মোচনের খবর। https://www.bikebd.com/ev/tailg-saibei-f71
Leave a Reply